
সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বাগতম বক্তৃতা
সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বাগতম বক্তৃতা - সাদিক মোহাম্মদ আলম
স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক সিরাজুল আলম খান ‘দাদাভাই’-এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই স্বাগতম বক্তৃতাটি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে পরিচিত এই মহান নেতা কখনোই ক্ষমতার মঞ্চে দাঁড়াননি, বরং দশকের পর দশক ধরে নেপথ্যে থেকে স্বাধীনতার রূপরেখা তৈরি করেছেন। ১৯৬২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হয় গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’, যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন। ৬ দফা, ১১ দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের সুসংগঠিত করার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি 'মুজিব বাহিনী' বা বিএলএফ-এর অন্যতম প্রধান কমান্ডার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বক্তৃতায় সিরাজুল আলম খানকে হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা বাঙালি জাতির ‘মসিহ’ বা ত্রাতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। গ্রিক পুরাণের প্রমিথিউসের মতো তিনি ঘুমন্ত জাতিকে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে জাগিয়ে তুলেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের যে প্রতীকগুলো আজ আমাদের অহংকার, তা তাঁর এবং তাঁর সৃষ্ট ‘নিউক্লিয়াস’-এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই ফসল। কালজয়ী স্লোগান ‘জয় বাংলা’ নির্ধারণ, লাল-সবুজ পতাকার নকশা, জাতীয় সংগীত নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ইশতেহার প্রণয়নের মতো যুগান্তকারী কাজগুলো তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই নীরবে সম্পন্ন করেছিলেন।
একজন প্রকৃত রাজনৈতিক দিশারী হিসেবে দাদাভাই বিশ্বাস করতেন, কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতাই শেষ কথা নয়; কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া স্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য অপূর্ণই থেকে যায়। এই আদর্শিক অবস্থান থেকেই স্বাধীনতার পর তিনি ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে যাওয়ার সুযোগ স্বেচ্ছায় প্রত্যাখ্যান করেন এবং শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে জাসদ প্রতিষ্ঠা করেন। সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হওয়ার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদা বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তাঁকে কখনোই প্রলুব্ধ করতে পারেনি। আজীবন মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের স্বপ্ন দেখা এই নির্মোহ ও দূরদর্শী নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়েই বক্তৃতার মূল বার্তাটি তুলে ধরা হয়েছে।
Interessiert an ähnlichen Veranstaltungen?
Laden Sie Sadiq M Alam zu Ihrer nächsten Veranstaltung ein oder besprechen Sie mögliche Kooperationen.
Nehmen Sie Kontakt auf