
ধর্মীয় উন্মাদনা, মব সহিংসতা ও রাষ্ট্রের নীরবতা: বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক ও সামাজিক সংকটের ব্যবচ্ছেদ (২০২৪-২০২৬)
প্রতিবেদনের সময়সীমা: ১ জানুয়ারি ২০২৪ – ২১ অক্টোবর ২০২৬
উপাত্তের ধরন: বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন, মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হিসাব
মূল প্রশ্ন: রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া, এমনকি রাষ্ট্রীয় উপস্থিতিতেও ধর্মীয় উন্মাদনা ও মব সহিংসতা কেন পুনরাবৃত্ত হয় — এবং এর জবাবদিহি কোথায় আটকে যায়?
সংক্ষেপে
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে দুটি আলাদা কিন্তু পরস্পর জড়ানো সহিংসতা-ধারা দৃশ্যমান। প্রথমটি উপাসনালয়-কেন্দ্রিক ভাঙচুর ও হামলা — মন্দির ও প্রতিমা থেকে শুরু করে সুফি মাজার, দরবার ও পীরের আস্তানা পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি মব সহিংসতা বা গণপিটুনি, যার বড় অংশ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংঘটিত।
দুটি ধারাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আকারে ও গতিতে বদলে যায়। ৪–২০ আগস্টের মধ্যে ২ হাজার ১০টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, যেখানে ৯ জন নিহত এবং ৬৯টি উপাসনালয় আক্রান্ত হয়। পরের দুই বছরে মাজার হামলা চলতে থাকে — মাকামের হিসাবে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে।
এর পাশে মব হত্যার রেখাটি আরও খাড়া। ২০২৫ সালে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ১৬৮ জন নিহত হন; ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসেই এই সংখ্যা ১৮৭। অর্থাৎ সহিংসতার ধরন বদলেছে, সংখ্যা কমেনি — বরং বেড়েছে। প্রতিবেদনটির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ এই: প্রতিটি বড় ঘটনার পরে রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এসেছে, কিন্তু রাষ্ট্রের জবাবদিহি আসেনি। গ্রেপ্তার, মামলা, তদন্ত কমিটির ঘোষণা — সবই আছে; কিন্তু ঘটনার কারণ নির্ধারণ, বিচারের গতি এবং উসকানিদাতার শাস্তি — এই তিন জায়গাতেই ফাঁক স্থায়ী হয়েছে।
১. সংজ্ঞা: আমরা কোন কথার কথা বলছি
১.১ ধর্মীয় উগ্রবাদ (Religious Extremism)
একাডেমিক আলোচনায় "উগ্রবাদ" বলতে সাধারণত দুটি ভিন্ন জিনিস বোঝানো হয় — এক, রাজনৈতিক লক্ষ্যে সহিংসতা ব্যবহারের বৈচিত্র্য, এবং দুই, নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতি কঠোর, অসহনশীল আনুগত্য। সামাজিক মনোবিজ্ঞানের একটি বহুল-উদ্ধৃত পর্যালোচনায় গবেষকরা দ্বিতীয় অর্থটি বেছে নিয়ে উগ্রবাদকে সংজ্ঞায়িত করেছেন "উপযুক্ত আচরণ সম্পর্কে স্পষ্ট নিয়ম থাকা এবং ভিন্ন নিয়ম বা আচরণ গ্রহণে অত্যন্ত কম অবকাশ থাকা" হিসেবে।[45] একই লেখায় তাঁরা সতর্ক করেছেন, উগ্রবাদ শব্দটির একটি সংকীর্ণ, অবমাননাকর অর্থও আছে যা প্রায়ই উগ্রবাদকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে ফেলে।[45]
এই প্রতিবেদনে ধর্মীয় উগ্রবাদ বলতে বোঝানো হচ্ছে: ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতিকে চূড়ান্ত, অপরিবর্তনীয় মানদণ্ড ধরে নিয়ে ভিন্ন মত, ভিন্ন উপাসনা-পদ্ধতি বা ভিন্ন জীবনযাত্রা সহ্য না করা, এবং সেই অসহিষ্ণুতাকে অন্যকে দমন করার নৈতিক অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা। যখন এই অসহিষ্ণুতা সংগঠিত শারীরিক সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তাকে বলা যায় ধর্মীয় সহিংস উগ্রবাদ।
"উন্মাদনা" এখানে আইনি পরিভাষা নয়, বিশ্লেষণী পরিভাষা। এটি বোঝায় এমন সমষ্টিগত আবেগ-উত্তেজনা, যেখানে যাচাই-বাছাই, প্রমাণ ও আনুপাতিকতার জায়গা আর থাকে না — এবং যেখানে জনতা একটি অভিযোগকে শাস্তির রায়ে পরিণত করে ফেলে। প্রতিবেদনের শিরোনামে "ধর্মীয় উন্মাদনা" বলতে এই দুইয়ের মিলিত রূপকে বোঝানো হয়েছে: ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা + জনতার আবেগ, যা বাংলাদেশে বারবার একই ফল দিয়েছে — ভাঙা প্রতিমা, পোড়া মাজার এবং লাশ।
১.২ মব সহিংসতা ও গণপিটুনি (Mob Violence / Mob Justice)
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইংরেজি "মব" অর্থ উচ্ছৃঙ্খল জনতা; আর এই জনতা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে সহিংসতা করলে তাকে বলা হয় "মব জাস্টিস" বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার।[42] ওই প্রতিবেদনেই উগান্ডার জাস্টিস সেন্টার্সের সংজ্ঞা উদ্ধৃত হয়েছে: মব জাস্টিস হলো "অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে কোনো ব্যক্তিকে অবমাননা, মারধর, হত্যা বা সম্পদ ধ্বংসের মাধ্যমে সাজা দেওয়া বা প্রতিশোধ নেওয়া"।[42]
এই প্রতিবেদনে মব সহিংসতা বলতে বোঝানো হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার বাইরে, সমষ্টিগতভাবে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই শাস্তি প্রয়োগের ঘটনা। এর চারটি চিহ্নিতকারক আমরা ব্যবহার করেছি:
- সন্দেহই অভিযোগ — প্রমাণের বদলে গুজব, ফেসবুক পোস্ট বা মাইকের ঘোষণা;
- প্রকাশ্যতা — বাজার, মাজার, থানা বা হাসপাতালের সামনে, ক্যামেরার সামনে সংঘটন;
- রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি সত্ত্বেও সংঘটন — পুলিশ, র্যাব বা সেনা ঘটনাস্থলে থাকলেও জনতা থামে না;
- শাস্তির অভিপ্রায় — হত্যা বা গুরুতর জখমই লক্ষ্য, শুধু ভয় দেখানো নয়।
গণপিটুনি এই সংজ্ঞার প্রাণঘাতী রূপ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়ার ঘটনা খুবই কম — ফলে প্রতিটি ঘটনা আইনি প্রক্রিয়ায় ঢুকে হারিয়ে যায়।[19]
সংজ্ঞা-সংক্রান্ত একটি সতর্কতা: "উগ্রবাদ" বা "জঙ্গি" শব্দ বাংলাদেশে প্রায়ই রাজনৈতিক লেবেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে ২৩ জনকে "উগ্রবাদী সন্দেহে" আটক করা হয়।[35] সন্দেহভিত্তিক এই ধরনের অভিযানে ধর্মীয় উগ্রবাদের সংজ্ঞা প্রশাসনিক বিবেচনার হাতে চলে যায় — যা এই প্রতিবেদনের আলোচ্য নীরবতারই আরেকটি রূপ।
২. পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা
এই প্রতিবেদন মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান নয়; এটি প্রকাশিত সংবাদ ও প্রকাশিত পরিসংখ্যানের ক্রস-চেক করা পাঠ। যে সীমাবদ্ধতাগুলো পাঠকের জানা দরকার:
- সংখ্যাগুলো একে অপরের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়। বিভিন্ন সংগঠন ভিন্ন পদ্ধতি, ভিন্ন সময়সীমা ও ভিন্ন সংজ্ঞা ব্যবহার করে। যেমন ৪–২০ আগস্ট ২০২৪-এ ঐক্য পরিষদ ২ হাজার ১০টি ঘটনা গুনেছে, যার মধ্যে ৯১৫টি বাড়িঘর ও ৯৫৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।[2] প্রথম আলোর নিজস্ব অনুসন্ধানে ৫–২০ আগস্টের মধ্যে আক্রান্ত ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৬৮।[1] ভিন্ন সময়সীমা ও ভিন্ন গণনা-পদ্ধতির কারণে এই দুই সংখ্যা মেলানো যায় না — এবং এই অমিলটাই নিজে একটি তথ্য: বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো একক, রাষ্ট্রীয়, পদ্ধতিগত গণনা নেই।
- গুজব ও পুরোনো ভিডিওর পুনঃপ্রচার ব্যাপক। মাকাম ১৩৪টি অভিযোগের মধ্যে ৯৭টিতে হামলার প্রমাণ পেয়েছে, ৩৭টির প্রমাণ পায়নি এবং ৬টি গুজব হিসেবে শনাক্ত করেছে।[30] ফলে "কত ঘটনা" প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে "কোন ঘটনা প্রমাণিত" প্রশ্নটি জরুরি।
- ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ঘটনা নিয়ে অতিরঞ্জিত ও ভুল তথ্য ছড়িয়েছে — প্রথম আলো নিজেই এই অপতথ্যের কথা উল্লেখ করেছে।[1]
- আন্ডার-রিপোর্টিং: গ্রামীণ এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুর বা মাজারে হামলার অনেক ঘটনা শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়ে থেমে যায়; মামলা হয় না। ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় পরিবার জিডি করেছে।[33]
৩. ঘটনাপ্রবাহ: জানুয়ারি ২০২৪ – অক্টোবর ২০২৬
৩.১ প্রথম পর্ব: জানুয়ারি – জুলাই ২০২৪
এই সাত মাসে বড় আকারের সমষ্টিগত সহিংসতা কম ছিল, কিন্তু উপাসনালয়-কেন্দ্রিক ভাঙচুর ও তার জেরে মব হত্যার নজির আছে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তিন ইউনিয়নে এক রাতেই ১৪টি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর; প্রতিমার হাত-পা-মাথা ভেঙে কিছু প্রতিমা পুকুরে ফেলা হয়।[4] |
| ১৯ এপ্রিল ২০২৪ | ফরিদপুরের মধুখালীতে মন্দিরের প্রতিমায় আগুন দেওয়ার সন্দেহে দুই শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা; ঘটনায় তিনটি মামলা হয় ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।[5] |
মধুখালীর ঘটনাটি এই প্রতিবেদনের প্রথম প্যাটার্নটি চিনিয়ে দেয়: উপাসনালয়ে আগুন → সন্দেহ → জনতার হত্যা → মামলা → বিচার না হওয়া। একই ক্রম পরের দুই বছরে কুমিল্লায় (চার মাজার আক্রান্ত, দুই দিন পরও উসকানিদাতা গ্রেপ্তার নয়)[25] এবং সাতক্ষীরায় (একটি অভিযোগ, একজন নিহত)[39] ফিরে এসেছে।
৩.২ আগস্ট ২০২৪: রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঢেউ
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরের দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সবচেয়ে ঘন ও কেন্দ্রীভূত পর্ব।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৪–২০ আগস্ট ২০২৪ | ২ হাজার ১০টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা; ৯ জন নিহত, ৪ জন ধর্ষণের শিকার (একজন বাক্প্রতিবন্ধী), ৬৯টি উপাসনালয়ে হামলা, ৯১৫টি বাড়িঘর এবং ৯৫৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।[2] |
| ৫ আগস্ট ২০২৪ | দেশের ২৯টি জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলার অভিযোগ করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ; এর মধ্যে চার জেলার নয়টি মন্দিরে হামলার কথা বলা হয়।[3] |
| ৫–২০ আগস্ট ২০২৪ | প্রথম আলোর নিজস্ব দেশব্যাপী অনুসন্ধানে আক্রান্ত সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৬৮।[1] |
এই পর্বের একটি কম-আলোচিত দিক: সহিংসতার পরেই সংখ্যা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রথম আলো লিখেছে, এসব হামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় মূলধারার কিছু গণমাধ্যমে অনেক অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে এবং "বহু মৃত্যুর সংখ্যা" দাবি করা হয়েছে।[1] অর্থাৎ সংখ্যা নিজেই একটি রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে যায় — যা পরবর্তী দুই বছরে প্রতিটি ঘটনায় ফিরে আসবে।
৩.৩ সেপ্টেম্বর – ডিসেম্বর ২০২৪: মাজার হামলার ঢেউ ও চিন্ময়-আলিফ সংকট
আগস্টের ধারাটি সেপ্টেম্বরে গিয়ে নতুন লক্ষ্য খুঁজে নেয় — মাজার, দরবার ও সুফি সমাধিস্থল।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দেওয়ানবাগী পীরের দরবারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। ট্রিগার: পীরের জন্মবার্ষিকীর জলসা আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেওয়ানবাগ জামে মসজিদের মুসল্লিদের বাধা; পরদিন ফজরের নামাজের পর আশপাশের মসজিদে ঘোষণা দিয়ে হামলা চালানো হয়।[6] |
| ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | সিলেটে হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে তিন দিনব্যাপী ওরসের শেষ রাতে সংঘর্ষ; অন্তত ২০ জন আহত, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। "মাজারে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড" অভিযোগে মুসল্লিরা আগেই মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছিলেন।[7] |
| ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজার ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়; মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমামসহ আলেম-ওলামারা হামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। হামলাকারীদের দাবি ছিল মাজারটি "ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের আখড়া"; মাজারপন্থীরা তা অস্বীকার করেন।[8] |
| সেপ্টেম্বর ২০২৪ | মাসজুড়ে মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ১২টি ঘটনা, একজন নিহত — মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) হিসাব। সংস্থাটি বলে, বাংলাদেশে "এই প্রথম ঘোষণা দিয়ে মাজারে আক্রমণ করা হয়েছে" এবং কোথাও বুলডোজার দিয়ে মাজারের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।[9] |
| ২৬ নভেম্বর ২০২৪ | শেরপুরে খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার (মুর্শিদপুর পীর) দরবারে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ; ১৩ জন আহত, ৭ জন আটক।[10] |
| ২৫–২৯ নভেম্বর ২০২৪ | বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ডিবি গ্রেপ্তার করে;[46] এর পরপর চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়;[47] হেফাজতে ইসলাম ইসকন নিষিদ্ধ ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে চট্টগ্রামে মিছিল করে।[11] |
৩.৪ ২০২৫: সহিংসতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়
২০২৫ সালে হামলার লক্ষ্য ও পদ্ধতি দুই-ই স্পষ্ট হয়: মাজার এবং "ধর্ম অবমাননার" অভিযোগে মব।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৯ জানুয়ারি ২০২৫ | ময়মনসিংহে কাওয়ালির আসরে হামলা এবং ২০০ বছরের পুরোনো মাজারে ভাঙচুর।[12] |
| ১১ জানুয়ারি ২০২৫ | সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-ভাঙচুরের ৯৮ শতাংশ ঘটনা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে আসে।[14] |
| ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ | ৪ আগস্টের পর সাড়ে পাঁচ মাসে ৪০টি মাজার, সুফি সমাধিস্থল ও দরগাহে ৪৪ বার হামলা; ২৩ জন গ্রেপ্তার — প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য।[13] |
| ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ | ছয় মাসে ৮০টি মাজার ও দরবারে হামলার দাবি বিশ্ব সুফি সংস্থার; তারা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানায়।[15] |
| ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | নোয়াখালীর কালাদরাপে বার্ষিক ওরস চলাকালে মাজারে হামলা; পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিষেধ উপেক্ষা করে "তাঁদের সামনেই" লোকজন মাজারে ভাঙচুর চালায়।[16] |
| ১ ও ১৭ মার্চ ২০২৫ | দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে রহিম শাহ বাবা ভান্ডারি মাজারে হামলা-অগ্নিসংযোগের পর ব্যাপক লুটপাট;[17] বরগুনার আমতলীতে ইসমাইল শাহ মাজারে ওরস চলাকালে হামলা ও আগুন, ২০ জন আহত।[18] |
| ৫ মার্চ ২০২৫ | অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মাসে ১১৪টি গণপিটুনির ঘটনা, ১১৯ জন নিহত, ৭৪ জন আহত; গত ১০ বছরে গণপিটুনিতে নিহত কমপক্ষে ৭৯২ — এইচআরএসএসের হিসাব।[19] |
| ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে জুমার নামাজের পর পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হামলা; কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, অর্ধশতাধিক আহত, পুলিশের দুই ও ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর, একজন নিহত।[20][21] |
| ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফেসবুকের "আপত্তিকর পোস্ট"কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল; দেড় শতাধিক আহত, ১৪৪ ধারা জারি, সাত ঘণ্টা সড়ক বন্ধ।[26] |
| ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | কুমিল্লার হোমনায় ফেসবুকে "মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি"র পোস্টকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে চারটি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ।[24] |
| ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ওই হামলার দুই দিন পরও "উসকানিদাতাদের কেউ গ্রেপ্তার হননি" — পুলিশের ভাষ্য, অভিযান চলছে।[25] |
| ২০ নভেম্বর ২০২৫ | পালাগানের আসরে দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মসজিদের ইমামের মামলায় বাউলশিল্পী আবুল সরকার কারাগারে।[27] |
| ১ ডিসেম্বর ২০২৫ | জানুয়ারি–নভেম্বর ২০২৫-এ ধর্ম অবমাননার অভিযোগভিত্তিক ৭৩টি ঘটনার শিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়; এর মধ্যে ৪০টিতে মামলা, ৫টিতে মামলা হয়নি, ৫ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত — এইচআরসিবিএম।[28] |
৩.৫ ২০২৬: সংখ্যা বাড়ে, ব্যাখ্যা বদলায়
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩৩ জন এবং মব সহিংসতা–গণপিটুনির ২৯২টি ঘটনায় ১৬৮ জন নিহত, ২৪৮ জন আহত — এইচআরএসএসের বার্ষিক প্রতিবেদন।[29] |
| ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে ৯৭টি মাজারে হামলা প্রমাণিত; ঢাকা বিভাগে ৩৬, চট্টগ্রামে ২৮; জেলার মধ্যে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ১৭ — মাকামের প্রতিবেদন।[30] |
| ১১ এপ্রিল ২০২৬ | কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জেরে "পীর" শামীম রেজার আস্তানায় হামলা, তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা। পুলিশ সুপার স্বীকার করেন, "বিক্ষুব্ধ জনতার তুলনায় পুলিশ কম ছিল"।[31] |
| ১৫–১৬ মে ২০২৬ | মিরপুরের শাহ আলী মাজারে ভক্তদের ওপর হামলা; ৯ জনকে আসামি করে মামলা, ভিডিও ফুটেজ দেখে ৩ জন গ্রেপ্তার। পুলিশের প্রাথমিক দাবি, আসামিরা জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী — দলটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।[32] |
| ২৬ জুন ২০২৬ | ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর; শ্যামা কালী, মহাদেব, ডাকিনী-যোগিনী ও সরস্বতীর মূর্তির হাত-মাথা ভাঙা, পরিবারের জিডি।[33] |
| ২ জুলাই ২০২৬ | ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬টি মাজারে হামলা প্রমাণিত, ১ নিহত ও নারীসহ ১০ আহত; ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির দাবি — মাকাম।[34] |
| ২৬ আগস্ট ২০২৬ | "মাজার ধ্বংস হলে আমরা ঘরে বসে থাকব না" — পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের হুঁশিয়ারি।[44] |
| ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে "উগ্রবাদী সন্দেহে" ২৩ জনকে আটক; পরে ১২ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।[35] |
| ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সিলেটের বালাগঞ্জে এক যুবক পূজামণ্ডপে ঢুকে বটি দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিকের প্রতিমায় কোপান; গ্রেপ্তার ও কারাগারে প্রেরণ।[36] |
| ৯ অক্টোবর ২০২৬ | কুষ্টিয়ায় রাতের আঁধারে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর, তিনটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত।[43] |
| ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | দুর্গাপূজার আগে সারা দেশে মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পূজা উদযাপন পরিষদের।[37] |
| ১৪–১৬ অক্টোবর ২০২৬ | সাতক্ষীরার দেবহাটায় "ধর্ম অবমাননার" অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা; হাসপাতালেও দ্বিতীয় দফায় পিটুনি। এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী পলাতক এবং ফেসবুকে সক্রিয়।[39] |
| ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | পুলিশের দাবি, পূজার আগে ৩৪ স্থানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় "সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য" পাওয়া যায়নি।[38] |
| ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২০২৬ সালের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় ৭৩ জন নিহত, ৬ হাজার ৪৭৩ আহত; একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত — এইচআরএসএস।[41] |
৪. ধারা-বিশ্লেষণ: একই সহিংসতা, তিনটি ভিন্ন যুক্তি
৪.১ তিন ধরনের সহিংসতা, তিন ধরনের উসকানি
প্রথম ধরনটি উপাসনালয়-বিরোধী ভাঙচুর — মন্দির, প্রতিমা, গির্জা। এতে উসকানি প্রায়ই আসে স্থানীয় ক্ষুদ্র বিরোধ, জমি-বাণিজ্যিক স্বার্থ বা "পবিত্রতা রক্ষা"র ঘোষণা থেকে; ঠাকুরগাঁওয়ে এক রাতেই ১৪ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর তার উদাহরণ।[4]
দ্বিতীয় ধরনটি মাজার-বিরোধী অভিযান — এবং এটি বাংলাদেশে সহিংসতার সবচেয়ে কম-আলোচিত অথচ সবচেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। দেওয়ানবাগ, শাহপরান, বুচাই পাগলা, ঘোড়াঘাট, নুরাল পাগলা — প্রতিটিতে অভিযোগ একই: মাজারে "শরিয়তবিরোধী কাজ", মাদক, গানবাজনা।[6][7][8] এখানে লক্ষ্য সংখ্যালঘু নয়, বরং অন্য মুসলিম — সুফি-প্রথা ও সুন্নি-কঠোরতার বিরোধ। মাকামের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৭ মাসে ৯৭টি মাজারে হামলা প্রমাণিত, যার দুই-তৃতীয়াংশ ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।[30]
তৃতীয় ধরনটি "ধর্ম অবমাননা" অভিযোগে মব হত্যা — এবং এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী। কুমিল্লায় একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে এক ঘণ্টায় চার মাজার আক্রান্ত;[24] কুষ্টিয়ায় পুরোনো ভিডিও থেকে একজন নিহত;[31] সাতক্ষীরায় একটি অভিযোগ থেকে একজন পিটিয়ে হত্যা।[39] ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে এমন অভিযোগভিত্তিক ৭৩টি ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে এইচআরসিবিএম।[28]
৪.২ উসকানির প্রযুক্তি: মাইক, ফেসবুক, গুজব
ঘটনাপ্রবাহে তিনটি বারবার ফিরে আসা কৌশল দেখা যায়:
- মসজিদের মাইকে ঘোষণা — দেওয়ানবাগে ফজরের পর ঘোষণা দিয়ে হামলা,[6] কুমিল্লায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে এক ঘণ্টায় চার মাজার।[24]
- ফেসবুক পোস্ট ও লাইভ — কুমিল্লা, হাটহাজারী, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরার ঘটনায় উসকানির কেন্দ্রে ফেসবুক। সাতক্ষীরায় হত্যার পরেও উসকানিমূলক ভিডিও ও পোস্ট ফেসবুকে ছিল বলে প্রথম আলোর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।[40]
- গুজব — মাকাম ৬টি হামলার খবর গুজব হিসেবে শনাক্ত করেছে;[30] ফলে "ঘটনা" ও "গুজব" আলাদা না করলে পরিসংখ্যান নিজেই অস্ত্র হয়ে ওঠে।
৪.৩ সংখ্যার রাজনীতি
একই সময়ের জন্য আমরা পাই: আক্রান্ত ঘরবাড়ি-ব্যবসা ১,০৬৮ (প্রথম আলো)[1] বনাম ১,৮৬৮ বাড়ি-ব্যবসা + ৬৯ উপাসনালয় (ঐক্য পরিষদ)[2]; মাজার হামলা ৪৪ (প্রেস উইং, সাড়ে ৫ মাস)[13], ৮০ (বিশ্ব সুফি সংস্থা, ৬ মাস)[15], ৯৭ (মাকাম, ১৭ মাস)[30], ৬ (মাকাম, ২০২৬-এর প্রথম ছয় মাস)[34]; মব হত্যা ১১৯ (৭ মাস, এইচআরএসএস)[19], ১৬৮ (২০২৫)[29], ১৮৭ (২০২৬-এর ৯ মাস)[41]। এই সংখ্যাগুলো পরস্পরবিরোধী নয় — এগুলো ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন পদ্ধতি। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোনো একক গণনা না থাকায় প্রতিটি পক্ষ নিজের সুবিধামতো সংখ্যা বেছে নিতে পারে, এবং দায় এড়ানোর সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে যায় সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক।
৫. রাষ্ট্রের নীরবতা: ছয়টি প্রমাণিত রূপ
"নীরবতা" মানে নিষ্ক্রিয়তা নয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্র কথা বলে, মামলা করে, গ্রেপ্তার করে — কিন্তু যে ছয়টি জায়গায় সে চুপ করে থাকে, সেগুলোই সহিংসতার পুনরাবৃত্তি নিশ্চিত করে।
৫.১ গ্রেপ্তার ও মামলার ব্যবধান
সাড়ে পাঁচ মাসে ৪৪টি হামলার ঘটনায় ২৩ জন গ্রেপ্তার — অর্থাৎ প্রতি দুই হামলায় একজন।[13] কুমিল্লায় চার মাজারে হামলার দুই দিন পরও উসকানিদাতাদের কেউ গ্রেপ্তার হননি;[25] সাতক্ষীরায় হত্যার প্রধান আসামি পলাতক থেকে ফেসবুকে পোস্ট চালিয়ে যাচ্ছেন।[39] মামলা হওয়া আর অপরাধী ধরা পড়া — এই দুইয়ের মাঝখানের ফাঁকটাই রাষ্ট্রের প্রথম নীরবতা।
৫.২ ভুক্তভোগীকে নিজেই দরজায় কড়া নিতে হয়
রাজবাড়ীর নুরাল পাগলার ঘটনায় হামলার দিন পরিবার থানায় অভিযোগ করেনি;[22] মামলা হয়েছে দুই মাস পরে, আদালতে, ভুক্তভোগীর শ্যালিকার অভিযোগে — ৯৬ জনের নাম এবং ৪০০–৫০০ অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে।[23] অর্থাৎ রাষ্ট্রের কাছে অভিযোগ নিয়ে যাওয়ার পথটি এত দীর্ঘ ও অনিশ্চিত যে ভুক্তভোগী নিজেই পিছিয়ে যান। রাষ্ট্র তখন নীরব থাকে না — সে অপেক্ষা করে, যতক্ষণ না বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
৫.৩ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও প্রতিরোধ না হওয়া
এটি এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। নোয়াখালীতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিষেধ উপেক্ষা করে "তাঁদের সামনেই" মাজারে ভাঙচুর চালানো হয়।[16] রাজবাড়ীতে হামলার সময় ১০–১২ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হন, পুলিশের দুই গাড়ি ও ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর হয়।[22] কুষ্টিয়ায় পুলিশ সুপার নিজেই স্বীকার করেন, "বিক্ষুব্ধ জনতার তুলনায় পুলিশ কম ছিল। এ জন্য নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি"।[31] অর্থাৎ সমস্যা "পুলিশ ছিল না" নয় — সমস্যা হলো জনতার সামনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ও সক্ষমতা। এই জায়গায় রাষ্ট্রের নীরবতা আক্ষরিক: উপস্থিত, কিন্তু অকার্যকর।
৫.৪ কারণ নির্ধারণের ভাষা: "রাজনৈতিক", "অন্তর্কোন্দল", "সাম্প্রদায়িক নয়"
রাষ্ট্রের ব্যাখ্যা-ভাষা বারবার সহিংসতাকে তার ধর্মীয় চরিত্র থেকে সরিয়ে নেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ বলে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ৯৮ শতাংশ ঘটনা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে।[14] ২০২৬ সালের অক্টোবরে পূজার আগে ৩৪ স্থানে হামলার ঘটনায় "সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য" পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি — বরং নেতৃত্ব ও অনুদান নিয়ে দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা বলা হয়।[38]
এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি ভুল নয় — মাকামও দেখেছে কিছু অভিযোগে ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক বিরোধ কাজ করেছে।[30] কিন্তু সমস্যা হলো অনুপাত: যখন প্রতিটি ঘটনার প্রাথমিক ব্যাখ্যাই হয়ে যায় "সাম্প্রদায়িক নয়", তখন ধর্মীয় উসকানির প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র (মাইক, মাদ্রাসা-শিক্ষক, ইমাম, সংগঠিত দল) তদন্তের বাইরে পড়ে যায়। ফল: দোষী ব্যক্তি ধরা পড়ে, কিন্তু উসকানির ব্যবস্থাটি অক্ষত থাকে।
৫.৫ উচ্চপর্যায়ের বক্তব্য, নিম্নপর্যায়ের ব্যবস্থা
প্রেস উইং তথ্য দেয়,[13] মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন[44] — কিন্তু বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের দাবি (২০২৫ সালের জানুয়ারি)[15] পূরণ হয়নি, ক্ষতিপূরণের দাবিও (২০২৬ সালের জুলাই)[34] অগ্রাহ্য হয়েছে। নীতিতে প্রতিশ্রুতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় শূন্যতা — এই বৈপরীত্যই "নীরবতা"র সবচেয়ে সভ্য রূপ।
৫.৬ তুলনামূলক প্রমাণ: রাষ্ট্র যখন দ্রুত কাজ করে
শাহ আলী মাজারে হামলার পর ভিডিও ফুটেজ দেখে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৯ জনকে আসামি করা হয়।[32] অর্থাৎ সক্ষমতা আছে। প্রশ্ন হলো কখন সক্ষমতা কাজে লাগে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল, শহুরে, মিডিয়া-দৃশ্যমান ঘটনায় রাষ্ট্র দ্রুত; গ্রামীণ মাজার, প্রতিমা ভাঙচুর বা দলীয় সমাবেশ থেকে জন্মানো মব হত্যায় ধীর। এই অসম গতি নিজেই একটি বার্তা দেয়: কোনো জীবন গুরুত্বপূর্ণ, কোনোটি কম।
৬. কেন এটি কেবল সংখ্যালঘুর প্রশ্ন নয়
- আইনের শাসন: মব সহিংসতা রাষ্ট্রের একচেটিয়া শাস্তি-প্রয়োগের অধিকার ভেঙে দেয়। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ১৮৭ জন মব হত্যার শিকার — এদের অনেকেই ছিলেন চোর, ছিনতাইকারী বা ডাকাত সন্দেহভাজন, অর্থাৎ প্রান্তিক মানুষ।[41]
- সংখ্যালঘু নাগরিকত্ব: ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এখন সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একটি ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র — ১১ মাসে ৭৩টি ঘটনা, যার ৪০টিতে মামলা, ৫ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত।[28]
- ধর্মীয় স্বাধীনতা: মাজার-বিরোধী অভিযান দেখায়, সহিংসতা কেবল সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে নয় — সংখ্যাগরিষ্ঠের ভেতরের ভিন্ন মতের বিরুদ্ধেও। একটি গোষ্ঠীর "শুদ্ধতা" অন্য গোষ্ঠীর উপাসনা-স্বাধীনতার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এখানে স্পষ্ট।[8][15]
- তথ্যের অবকাঠামো: রাষ্ট্রীয় একক গণনা না থাকায় প্রতিটি ঘটনা বিতর্কিত সংখ্যায় পরিণত হয়; ফলে নীতি-নির্ধারণের ভিত্তিই দুর্বল থাকে।[1][2]
৭. যা দেখা দরকার
- একক রাষ্ট্রীয় পর্যবেক্ষণ: উপাসনালয় ও মাজারে হামলার ঘটনা, মব হত্যা ও বিচারিক অগ্রগতি — একই সংজ্ঞায়, এক কেন্দ্রে, মাসিক প্রকাশ। বর্তমানে এ কাজ করছে এনজিও-গবেষণা সংস্থাগুলো,[2][15][30] রাষ্ট্র নয়।
- উসকানিকে অপরাধ হিসেবে দেখা: মাইক-ঘোষণা, ফেসবুক লাইভ ও সংগঠিত ঘোষণার ক্ষেত্রে "কে ঘোষণা দিল" — এই প্রশ্নটি তদন্তের কেন্দ্রে আনা। কুমিল্লা ও সাতক্ষীরার ঘটনা দেখায় উসকানি ছাড়া হামলা হয় না।[24][40]
- ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাহিনীর জবাবদিহি: যে ঘটনায় পুলিশ-সেনা উপস্থিত থেকেও হামলা থামেনি,[16][22][31] সেগুলোর জন্য পৃথক প্রশাসনিক তদন্ত।
- ভুক্তভোগীর অভিযোগের পথ ছোট করা: থানায় অভিযোগ না নিলে বা দেরি হলে কেন — এই প্রশ্নের উত্তর স্বয়ংক্রিয় রিপোর্টিং ব্যবস্থায়।
- প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহি: হত্যার উসকানিমূলক কনটেন্ট দুই দিন পরও অনলাইনে থাকার ঘটনা[40] নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিষ্ক্রিয়তার প্রমাণ।
৮. উপসংহার
২০২৪ থেকে ২০২৬ — তিন বছরে বাংলাদেশের ধর্মীয় সহিংসতার চেহারা তিনবার বদলেছে: ২০২৪ সালের আগস্টে তা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নিয়েছিল, ২০২৪–২৫ সালে মাজার-বিরোধী অভিযানের, আর ২০২৫–২৬ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব হত্যার। কিন্তু কাঠামোটি একই থেকেছে: একটি অভিযোগ, একটি মাইক বা একটি পোস্ট, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জনতা, এবং তারপর একটি মামলা যা কয়েক বছর ধরে চলে।
রাষ্ট্রের নীরবতা এই চক্রের কোনো একটি ধাপে নয় — প্রতিটি ধাপে। ঘটনার সময় উপস্থিত থেকে সে থামায় না;[16] ঘটনার পরে ব্যাখ্যা দিয়ে সে ধর্মীয় চরিত্র অস্বীকার করে;[38] মামলার পরে বিচারিক গতি ধীর রাখে; আর সংখ্যার প্রশ্নে সে চুপ থাকে, যাতে বিতর্ক চলতে থাকে।[1][2] ফলে ভাঙা প্রতিমা মেরামত হয়, পোড়া মাজার নতুন করে গড়া হয় — কিন্তু পরের বছর একই জায়গায়, একই যুক্তিতে, আরেকটি জনতা তৈরি হয়।
যতদিন "ধর্মীয় উন্মাদনা" কেবল একটি নৈতিক নিন্দার বিষয় থাকে এবং "মব সহিংসতা" কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা সমস্যা, ততদিন এর রাজনৈতিক অর্থনীতি — কে উসকানি দেয়, কে লাভবান হয়, কে রক্ষা পায় — অপ্রশ্নিত থেকে যাবে। এই প্রতিবেদনের সূত্রগুলো সেই প্রশ্নটুকুই তুলে রাখছে।
তথ্যসূত্র
- প্রথম আলো, ‘৫–২০ আগস্ট: হামলার শিকার সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০৬৮’, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘২ হাজার ১০টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত ৯: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’, সেপ্টেম্বর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘২৯ জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে: হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’, ৫ আগস্ট ২০২৪
- ভোরের কাগজ, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে এক রাতে ১৪ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর’, ফেব্রুয়ারি ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘মধুখালীতে মন্দিরে প্রতিমায় আগুন, সন্দেহে পিটুনিতে দুজনের মৃত্যু’, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘নারায়ণগঞ্জে দেওয়ানবাগী পীরের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ’, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘মধ্যরাতে সিলেটের শাহপরান (রহ.) মাজারে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০’, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজার ভাঙচুর, ভবনে অগ্নিসংযোগ’, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘সেপ্টেম্বরে মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ১২ ঘটনা: এমএসএফ’, ১ অক্টোবর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘শেরপুরে মুর্শিদপুর পীরের দরবারে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১৩, আটক ৭’, ২৬ নভেম্বর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘ইসকন নিষিদ্ধ ও আইনজীবীর হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি’, ২৯ নভেম্বর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘ময়মনসিংহে কাওয়ালি অনুষ্ঠানে হামলা, ২০০ বছরের পুরোনো মাজারে ভাঙচুর’, ৯ জানুয়ারি ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘সাড়ে ৫ মাসে ৪০ মাজারে হামলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ২৩: প্রেস উইং’, ১৮ জানুয়ারি ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-ভাঙচুরের ৯৮% ঘটনা রাজনৈতিক কারণে: পুলিশের অনুসন্ধান’, ১১ জানুয়ারি ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘ছয় মাসে ৮০ মাজারে হামলা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি’, ২৩ জানুয়ারি ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘নোয়াখালীতে ওরসের অনুষ্ঠানে হামলা, মাজার ভাঙচুর’, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘ঘোড়াঘাটে মাজারে হামলা-অগ্নিসংযোগের পর ব্যাপক লুটপাট’, ১ মার্চ ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘বরগুনায় মধ্যরাতে মাজারে হামলা-আগুন, আহত ২০’, ১৭ মার্চ ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘দেশে গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে, ৭ মাসে নিহত ১১৯ জন’, ৫ মার্চ ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘রাজবাড়ীতে নুরাল পাগলার দরবারে ভাঙচুর–অগ্নিসংযোগ, আহত অর্ধশত’, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘রাজবাড়ীতে নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনায় একজন নিহত’, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘রাজবাড়ীতে নুরাল পাগলার দরবার থমথমে, থানায় অভিযোগ দেননি পরিবার’, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘রাজবাড়ীতে নুরাল পাগলার দরবারে হামলার দুই মাস পর আদালতে পরিবারের মামলা’, নভেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘মাইকে ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লার ৪ মাজারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ’, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘কুমিল্লায় ৪ মাজারে হামলা: উসকানিদাতাদের কেউ গ্রেপ্তার হননি’, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘হাটহাজারীতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় আহত ১৫০’, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘মানিকগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউলশিল্পী আবুল সরকার কারাগারে’, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘১১ মাসে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে ৭৩টি ঘটনার শিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়: এইচআরসিবিএম’, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- প্রথম আলো, ‘২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৩৩, মব সহিংসতা–গণপিটুনিতে নিহত ১৬৮’, ১ জানুয়ারি ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘১৭ মাসে হামলার শিকার ৯৭টি মাজার: মাকাম’, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা চালিয়ে ‘‘পীর’’কে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন’, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘শাহ আলী মাজারে হামলা: ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার ৩’, ১৬ মে ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘ময়মনসিংহে কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করল দুর্বৃত্তরা’, ২৬ জুন ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘চলতি বছরের ছয় মাসে ৬ মাজারে হামলা, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান’, ২ জুলাই ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে উগ্রবাদী সন্দেহে আটক ২৩’, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ‘সিলেটে পূজামণ্ডপে ঢুকে কুপিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর, যুবক কারাগারে’, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা), ‘দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার ৩৪ ঘটনা: পূজা উদযাপন পরিষদ’, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- জাগোনিউজ২৪.কম, ‘পূজার আগে ৩৪ স্থানে হামলা-ভাঙচুরে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য পায়নি পুলিশ’, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যায় দুজন গ্রেপ্তার, ফেসবুকে সরব প্রধান আসামি আমিনী’, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- প্রথম আলো (মত), ‘ফেসবুকে উসকানি দিয়ে হত্যার ঘটনায় জবাবদিহির বাইরে থাকবে মেটা?’, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭: এইচআরএসএস’, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- প্রথম আলো, ‘মব জাস্টিস কী, ইতিহাস কী বলে, কোন দেশে বেশি হয়’, ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘কুষ্টিয়ায় মন্দিরে ভাঙচুর, তিনটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত’, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- দৈনিক ভোরের ডাক, ‘মাজার ধ্বংস হলে ঘরে বসে থাকব না: প্রতিমন্ত্রী আজাদ’, ২৬ আগস্ট ২০২৬
- Wibisono, Louis & Jetten, ‘A Multidimensional Analysis of Religious Extremism’, Frontiers in Psychology, 2019
- প্রথম আলো, ‘সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেপ্তার’, ২৫ নভেম্বর ২০২৪
- প্রথম আলো, ‘চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যায় চন্দন দাস গ্রেপ্তার, পুলিশ বলছে কিরিচ হাতে কুপিয়েছিলেন তিনি’, নভেম্বর ২০২৪
এই ইনসাইটটি কি আপনার ভালো লেগেছে?
আপনার মতামত জানান অথবা এই কৌশলগুলো আপনার ব্যবসায় কীভাবে প্রয়োগ করা যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করুন।
যোগাযোগ করুন


